
বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে
আজ, ১৭ জুলাই ২০২৫ তারিখে, **বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দুটি ভিন্ন পদ্ধতিতে গণনা করা হয়:**
* **বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব গণনা পদ্ধতি অনুযায়ী:** বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে **৩০.০৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে (৩০ হাজার ৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার)**।
* **আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (IMF) ব্যালেন্স অব পেমেন্টস অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট পজিশন ম্যানুয়াল (BPM6) পদ্ধতি অনুযায়ী:** বাংলাদেশের নিট রিজার্ভ বর্তমানে **২৪.৯৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে (২৪ হাজার ৯৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার)** দাঁড়িয়েছে।
রিজার্ভের বিস্তারিত তথ্য:
বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ গত কয়েক মাস ধরে বেশ আলোচনার বিষয়। আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা, আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং রেমিটেন্স প্রবাহের তারতম্যের কারণে রিজার্ভে চাপ দেখা গিয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে রেমিটেন্স প্রবাহ বৃদ্ধি এবং কিছু সংস্কারমূলক ব্যবস্থার কারণে রিজার্ভ কিছুটা ইতিবাচক ধারায় ফিরে এসেছে।
**রিজার্ভের সংজ্ঞা:**
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বলতে একটি দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক সংরক্ষিত বিদেশি মুদ্রা, সোনা, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (IMF) স্পেশাল ড্রইং রাইটস (SDRs) এবং অন্যান্য বিদেশি সম্পদকে বোঝায়। এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং আমদানি ব্যয় মেটানোর সক্ষমতার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক।
**রিজার্ভ গণনার দুটি পদ্ধতি:**
বাংলাদেশ ব্যাংক পূর্বে তাদের নিজস্ব পদ্ধতিতে রিজার্ভের হিসাব দিত, যা "গ্রস রিজার্ভ" নামে পরিচিত। তবে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF) তাদের "ব্যালেন্স অব পেমেন্টস অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল ইনভেস্টমেন্ট পজিশন ম্যানুয়াল (BPM6)" পদ্ধতি অনুসরণ করে নিট রিজার্ভের হিসাব দেয়ার জন্য বাংলাদেশকে উৎসাহিত করে। এই BPM6 পদ্ধতি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে চলে এবং এতে রিজার্ভ থেকে বিভিন্ন দায় যেমন - ইডিএফ (Export Development Fund) ও অন্যান্য ঋণ বাদ দেওয়া হয়। তাই, নিট রিজার্ভের পরিমাণ গ্রস রিজার্ভের চেয়ে কম দেখা যায়।
**সাম্প্রতিক প্রবণতা ও কারণসমূহ:**
* **রেমিটেন্স বৃদ্ধি:** ২০২৪-২৫ অর্থবছরে (জুলাই, ২০২৪ - জুন, ২০২৫) রেকর্ড পরিমাণ রেমিটেন্স এসেছে, যা রিজার্ভ বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়েছে। প্রবাসীরা বৈধ পথে রেমিটেন্স পাঠানো বাড়ানোর কারণে ডলারের সরবরাহ কিছুটা স্বাভাবিক হয়েছে।
* **রপ্তানি আয় বৃদ্ধি:** রপ্তানি খাতেও ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি রিজার্ভ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।
* **ঋণ ও বাজেট সহায়তা:** বিশ্বব্যাংক, এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক (AIIB), জাপান এবং ওপেক ফান্ড থেকে পাওয়া ঋণ ও বাজেট সহায়তা রিজার্ভে যুক্ত হচ্ছে, যা এর পরিমাণ বৃদ্ধিতে সাহায্য করছে।
* **আমদানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ:** সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের ফলে আমদানি ব্যয় কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে, যা ডলারের ওপর চাপ কমাতে সাহায্য করেছে।
বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের স্থিতিশীলতা দেশের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি আমদানি ব্যয় মেটানো, বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ এবং টাকার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করে।
0 Comments